শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন
ফের বাড়ছে করোনা! টিকা ছাড়া ঝুঁকিতে আছেন আপনি?
অনলাইন ডেস্ক
দেশে আবারও নতুন করে বাড়ছে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে গর্ভবতী নারী, ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি এবং জটিল অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য অতিরিক্ত ডোজ টিকা নেওয়ার জোরালো পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বুধবার (১১ জুন) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর জানান, বর্তমানে তাদের হাতে রয়েছে ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৯০০ ডোজ কোভিড টিকা, যা থেকেই আপাতত টিকা কার্যক্রম চালানো হবে।
তিনি আরও বলেন, এখনো যারা একেবারেই টিকা নেননি, তাদের মধ্যে যেসব পেশাজীবী ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে কাজ করেন, গর্ভবতী নারী এবং ইমিউনো-কম্প্রোমাইজড ব্যক্তিদের অবশ্যই টিকা নেওয়া উচিত। আর যারা আগেই টিকা নিয়েছেন এবং ষাটোর্ধ্ব, কোমর্বিডিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম রয়েছে—তাদের জন্য ছয় মাস পর এক ডোজ বুস্টার টিকা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
যারা আগে টিকা নিয়েছেন তারা যদি এখন কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে চান—সে প্রশ্নে ডা. আবু জাফর স্পষ্ট করেন, কোভিড টিকাদান কার্যক্রম এখনও চালু আছে। নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রে গেলে সহজেই টিকা পাওয়া যাবে।
মজুদ টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক হালিমুর রশিদ বলেন, ইউএস-সিডিসি’র গাইডলাইনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ সালের নতুন টিকা ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের জন্য কার্যকর। তবে বাংলাদেশে থাকা পূর্ববর্তী টিকাও সংক্রমণের তীব্রতা কমাতে সক্ষম। ডব্লিউএইচও-র নির্দেশনা অনুসারে, লেটেস্ট টিকা না থাকলেও পুরনো টিকাই আপাতত সুরক্ষা দেবে।
তিনি বলেন, আগের মজুদ টিকা ব্যবহারের সুপারিশই আন্তর্জাতিকভাবে এসেছে। যদিও নতুন টিকা সংগ্রহের জন্য এখনও যোগাযোগ শুরু হয়নি, তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অচিরেই সে উদ্যোগ নেবে।
সব হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নে মহাপরিচালক বলেন, সাধারণ জনগণের জন্য করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। শুধুমাত্র লক্ষণযুক্ত বা উপসর্গধারী রোগীদের ক্ষেত্রেই চিকিৎসকদের বিবেচনায় পরীক্ষা করা হবে।
তিনি জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে আরটিপিসিআর পরীক্ষার সুবিধা রাখা হবে। ইতোমধ্যে কোন হাসপাতালে কত কিট লাগবে তার তালিকা প্রস্তুত আছে। ঈদের কারণে কিছুটা দেরি হলেও কীট সংগ্রহের কাজ চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান জানান, দেশে সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় প্রতিটি জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে শয্যা প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।